কালো কুক্কুট | Black coot | Fulica atra

967
কালো কুক্কুট
কালো কুক্কুট | ছবি: উইকিপিডিয়া

অতি সুলভ দর্শন পরিযায়ী পাখি কালো কুক্কুট । স্থায়ী নিবাস উত্তর এশিয়া ও হিমালয় অঞ্চলে। যখন প্রচণ্ড শীতে নিজ বাসভূমে খাদ্য সংকট দেখা দেয় কেবল তখনই আমাদের দেশে চলে আসে খাদ্যের সন্ধানে। শুধু খাদ্যের সন্ধানেই নয়, উষ্ণতার প্রয়াজনেও এ দেশে আশ্রয় নেয় ওরা। আশ্রয় নেয় সুপেয় জলের জলাশয়ে। হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল এবং মোহনা অঞ্চলে হাজার হাজার পাখি একত্রে বিচরণ করে। এতদাঞ্চল ছাড়াও শীতে এদের দেশের বিভিন্ন স্থানেই দেখা মেলে। দেখা মেলে ঢাকা চিড়িয়াখানার লেকেও। মূলত জলচর পাখি এরা। হাঁসের মতো চট করে উড়তে পারে না। ওড়ার প্রস্তুতি নিতে হয় জলের ওপর খানিকটা কসরত করে।

অত্যন্ত নিরীহ গোত্রের পাখি এরা। পারতপক্ষে নিজেদের ভেতর ঝগড়ায় লিপ্ত হয় না। সুখবরটি হচ্ছে শিকারিদের হাতে খুব বেশি ধৃত হয় না কালো কুক্কুট। প্রধান কারণটি হচ্ছে এদের মাংস তেমন সুস্বাদু নয়। যার কারণে প্রজাতিটি কিছুটা রক্ষা পাচ্ছে বলা যায়। তবে এদের প্রধান শত্র“ ঈগল গোত্রের পাখি। খোলা হাওর-বাঁওড়ে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে কালো কুক্কুট বিচরণ করে বেখেয়ালি হয়ে ঠিক তখনই সুযোগটি কাজে লাগায় শিকারি পাখিরা। ওপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শক্ত ধারালো নখর বিঁধিয়ে দেয় ওদের পিঠে। তথাপিও প্রজাতিটি বাংলাদেশে বিপন্মুক্ত। এটি আমাদের জন্য সুখবরই বটে। প্রতিটি প্রজাতি দেশে এমনি করে বিপন্মুক্ত হলে আমাদের জন্য সেটি হতো মহা আনন্দের।

পাখির বাংলা নামঃ কালো কুক্কুট, ইংরেজি নামঃ কমন কুট, (Common coot), বৈজ্ঞানিক নামঃ Fulica atra. গোত্রের নামঃ রাললিদি’। এরা ‘জল কুক্কুট’ ও ‘পাতি কুট’ নামে পরিচিত।

লম্বায় ৪২ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড় কুচকুচে কালো। পিঠ কালচে ধূসর। খাটো লেজ গাঢ় কালো। ডানার প্রান্ত সামান্য সাদা। চোখ টকটকে লাল। ঠোঁট ত্রিকোণাকৃতির। ঠোঁটের গোড়ায় রয়েছে নীলাভ-সফেদ বর্ম। পা সবুজাভ। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।

প্রধান খাবারঃ ধান, জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা, জলজ কীট। মাঝে মধ্যে ছোট মাছ খেতে দেখা যায়। প্রজনন মৌসুম গ্রীষ্মকালে। বাসা বাঁধে ভাসমান জলজ উদ্ভিদের ওপর লতাপাতা বিছিয়ে। ডিম পাড়ে ৬-১০টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২০-২১ দিন।

লেখকঃ আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।